কোভিডে ঐতিহ্যে ভাটা হাটসেরান্দী গ্রামীন পুজায়
দি নিউজ লায়ন ; বীরভূমের নানুর থানার অন্তর্গত হাটসেরান্দী গ্রামীন পূজায় কোভিড পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ ৩০০ বছরের ঐতিহ্য ও পরম্পরায় ভাটা পড়ল এই প্রথমবার। এই গ্রামে মোট ১৮ টি পুজো হয়। গত বছর পর্যন্ত দুর্গাপুজোয় মহাসপ্তমীর সকালে গ্রামের মোট ১৮ টি পূজা পরিবার সহ গোটা গ্রামের সকলে সমবেত হয়ে কলা বউ ও নবপত্রিকা স্নান উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের হয়।
গ্রামের শেষ প্রান্তে অবস্থিত কাঁদরে আঠারোটি পালকির নবপত্রিকা, ঢাক-ঢোল সমেত প্রায় কয়েক হাজার গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে এই উৎসবে যোগ দেন। কিন্তু সেই ঐতিহ্য ম্লান হয়ে গেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপে। হাইকোর্ট ও রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা কে মান্যতা দিয়ে গ্রামের ১৮ টি পরিবার একসাথে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করলেন না এই প্রথমবার। আনন্দ একটু কম হলেও আক্ষেপ নেই গ্রামবাসীদের, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে। কারণ গ্রামবাসীদের জীবন সবার আগে।
হাটসেরান্দীর এই পুজো বিখ্যাত আরেকটি কারণে। বাংলার ঐতিহ্যশালী ও হারিয়ে যাওয়া পটচিত্রে নির্মিত যে ক'টি জায়গায় মা দুর্গা পুজিত হন, এই গ্রাম তার একটি। হাটসেরান্দীর আঠারোটির মধ্যে আটটি পূজায় মা দুর্গার পুজো হয় পটচিত্র নির্মিত প্রতিমায়। এর মধ্যে চট্টোপাধ্যায় পরিবার, রায় পরিবার সহ মন্ডল, পাল পরিবার উল্লেখযোগ্য। মহাঅষ্টমীর ক্ষণে একটি দুটি পরিবার ব্যতিরেকে অধিকাংশই পরিবার এখন চাল কুমড়ো বলির মাধ্যমে সন্ধিপুজো সম্পন্ন করেন।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় যেখানে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার মুখে, সেখানে প্রায় ৩০০ বছর ধরে বীরভূমের হাটসেরান্দী গ্রাম ধরে রেখেছেন তাঁদের ঐতিহ্যশালী সংস্কৃতি। এবছর করোনা ভাইরাসের কারণে উৎসব একটু ম্লান হলেও আগামী বছর মা দুর্গার কৃপায় দ্বিগুন আনন্দে মাতবেন বিশ্বাস গ্রামবাসীদের।

Post a Comment